উদীয়মান তরুণ ক্রিকেটার তানজিম হাসান সাকিবের ভেরিফায়েড পেজের পুরোনো একটি পোস্ট সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে। এরপরই এই পোস্টের পক্ষে-বিপক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা গেছে তীব্র প্রতিক্রিয়া।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের ম্যাচেই ভারতের বিপক্ষে অসামান্য নৈপুণ্যে সাড়া ফেলেছেন তানজিম হাসান সাকিব। তবে এই ক্রিকেটারর ভেরিফায়েড পেজে ২০২২ সালের ৯ সেপ্টেম্বরের একটি পোস্টের স্ক্রিনশট ভাইরাল হয়েছে। পোস্টটি এখন অবশ্য তাঁর টাইমলাইনে নেই। ওই পোস্টের স্ক্রিনশটে লেখা ছিলো।
‘স্ত্রী চাকরি করলে স্বামীর হক আদায় হয় না, স্ত্রী চাকরি করলে সন্তানের হক আদায় হয় না, স্ত্রী চাকরি করলে তার কমনীয়তা নষ্ট হয়, স্ত্রী চাকরি করলে পরিবার ধ্বংস হয়, স্ত্রী চাকরি করলে পর্দা নষ্ট হয়, স্ত্রী চাকরি করলে সমাজ নষ্ট হয়।
‘স্ত্রীকে যেই স্বামী বলে, আমার স্ত্রীর চাকরি করার দরকার নেই। আমি যা পাই তোমাকে খাওয়াব, সে তাকে রাজরানি হয়ে আছে। এখন সে রাজরানি না হয়ে কর্মচারী হতে চায়।’
ওই পোস্টে আরও লেখা আছে, ‘আসলে স্ত্রী স্বামীর মর্যাদা বোঝেনি, স্ত্রী নিজের মর্যাদাও বোঝেনি। ঘর একটি জগৎ। অসংখ্য কাজ রয়েছে। আজ ছেলেদের বেকারত্বের বড় কারণ হচ্ছে, মেয়েরা এগিয়ে আসছে, ছেলেরা কোনো চাকরি পাচ্ছে না। একটি ছেলেকে চাকরি দিলে পুরো পরিবারের উপকার হয়।’
একই পোস্টের শেষে বলা হয়েছে,‘অতএব মা-বোনেরা নিজের আত্মমর্যাদা রক্ষার্থে স্বামীর আনুগত্য ও বাসায় অবস্থান করে রানির হালাতে অবস্থান করুন। অতএব মা-বোনেরা দুনিয়া কামাতে যেয়ে আখেরাত না হারিয়ে ঘরে অবস্থান করে স্বামী-সন্তানের খেদমত করে দুনিয়া ও আখেরাত দুটিই কামাই করতে পারবেন ইনশাআল্লাহ।’
পোস্টের শেষে একটি মাইক্রোফোনের ইমোটিকনসহ শায়খ আবু বকর মুহাম্মাদ জাকারিয়া (হাফিযাহুল্লাহ) নামটি লেখা আছে।
তানজিম হাসান সাকিবের জন্মবৃত্তান্ত;
(জন্ম: ২০ অক্টোবর ২০০২) একজন বাংলাদেশী ক্রিকেটার। ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ ২০১৮-১৯ টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্রিকেট দলের হয়ে ২৭ মার্চ ২০১৯ সালে লিস্ট এ ক্রিকেটে স্থান অর্জন করেছিলেন। ২০২৩ সালের এশিয়া কাপের জন্য বাংলাদেশের দলে বদলি হিসেবে নাম দেওয়া হয়। ২০২৩ এশিয়া কাপে ভারতের বিপক্ষে ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩ সালে তার ওডিআই অভিষেক হয়।
একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা:
তানজিম হাসান সাকিব কি একজন ধর্মীয় বক্তা নাকি একজন ক্রিকেটার? তাকে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের মূল স্কোয়াডে নেওয়া হয়েছে কি তার ধর্মীয় বিশ্বাস দেখে নাকি তার ব্যক্তিগত জীবনের বিশ্বাস দেখে? কিংবা তিনি যদি আপনার পছন্দ মতের খেলোয়াড় হন, তার ক্রিকেটীয় পারফরম্যান্স খারাপ হয়, তবে কি জাতীয় ক্রিকেট দলের একাদশে ঠাঁই হবে? আপনার উত্তর হবে না। তাহলে একজন ক্রিকেটারের ক্রিকেটীয় পারফরম্যান্স দেখে মূল্যায়ন করা উচিত নাকি ধর্মীয় বিশ্বাস দেখে? কিন্তু এই পোস্ট তো করেছিলেন ২০২২ সালের ৯ সেপ্টেম্বর। কই তখন তো তার এই অভিমত নিয়ে মিডিয়া বা সোশ্যাল মিডিয়াতে শোরগোল হয়নি। তাহলে তার এই বিষয় নিয়ে শোরগোল শুরু হল কখন? ইন্ডিয়ার সাথে অভিষেক ম্যাচে ভালো পারফরম্যান্স করার পর। আরও সহজ ভাষায় যদি বলি, 'জাতীয় দলে একজন উদীয়মান ভালো ক্রিকেটার হিসেবে সূচনা হওয়ার পর', অর্থাৎ, ক্রিকেটার হিসেবে পরিচিত হওয়ার পর।
তাহলে ক্রিকেটার হিসেবে একজনকে চেনার পর তার ব্যক্তিগত বিশ্বাস বা অভিমত নিয়ে ওঠেপড়ে লাগলেন!! হ্যাঁ একজন মানুষের অবস্থান কিন্তু অনেক কিছু বলে দেয়। সব অবস্থান থেকে সবকিছু বলা যায় না।
একজন ব্যক্তি তার ব্যক্তিগত অভিমত প্রকাশ করেছেন- সেটা কারো কারো দৃষ্টিতে সঠিক, আবার কারো কারো দৃষ্টিতে বেঠিক। সেটা কে কিভাবে নিয়েছে বা নিচ্ছে সেটাই বড় কথা। যদিও তানজিম হাসান সাকিব উনার কথা কাউকে মানতে বাধ্য করেননি বা করার সুযোগও নেই। তবু ধর্মীয় বিষয় নিয়ে কথা বলার আগে নিজের অবস্থান নিয়ে ভাবা উচিত নয় কি?
অনেকে এটাকে 'মত প্রকাশ স্বাধীনতা' এর কথা বলেন, আবার অনেকে এটাকে নিজেদের বিরুদ্ধ মতকে প্রকাশ করলে টুঁটি চেপে ধরার কথা বলছেন! কেউ কেউ আবার বিষয়টিকে ডাবল স্ট্যান্ডার্ড বলেছেন।
আসলে Tanzim Hasan Sakib হয়তো ভাবতেও পারেনি, এমন পর্যায়ে উনি উঠে আসবেন। নারীদের জন্য ব্যাবসা কিংবা চাকরি কি হারাম? তাহলে উনি কিভাবে নারীদের নিয়ে এমন মন্তব্য করলেন?
হয়তো কেউ বলবেন এটা উনার ব্যক্তিগত অভিমত। না, উনিতো কোন ধর্মীয় বক্তাও নন। তাছাড়া ইসলাম নিয়ে ব্যক্তিগত অভিমত দেয়ার কোন সুযোগ নেই।
সুতরাং তানজিম হাসান সাকিবকে এখনি ভুল থেকে শুধরে নেয়া উচিত।

